Home / ড্রাই স্কিন / মুখ পরিষ্কার করার জন্য ফেস ওয়াশ নয়, আস্থা রাখুন কোমল ঘরোয়া সমাধানে

মুখ পরিষ্কার করার জন্য ফেস ওয়াশ নয়, আস্থা রাখুন কোমল ঘরোয়া সমাধানে

হ্যাঁ, এ কথা খুবই সত্যি যে এ পোড়া বঙ্গে শীত যে কবে পড়ে তা ঠিকমতো বোঝাই যায় না! কিন্তু কালীপুজো শেষ মানেই হাওয়া ঘুরে গিয়েছে – আর উত্তুরে বাতাস যে আপনার ত্বকের সমস্ত সজীবতা শুষে নেয়, তা কি আর নতুন করে বলে দিতে হবে? ত্বকের আর্দ্রতায় টান পড়া মানেই কিন্তু মুখের নানা জায়গায় দেখা দেবে শুকনো প্যাচ, বাড়বে বলিরেখার আশঙ্কাও। তাই সময় থাকতে সাবধান হোন। শীতের ক’টাদিন অন্তত ত্বক পরিষ্কার করুন প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করে। তাতে ত্বক ঝকঝকে সাফ তো হবেই, সেই সঙ্গে থাকবে কোমল ও মসৃণ। সেই সঙ্গে খেয়াল রাখবেন যেন জল খাওয়ার পরিমাণে ঘাটতি না আসে। শীতের দিনে যেহেতু ঘাম তেমন হয় না, তাই তেষ্টাও পায় কম। ফলে জল খাওয়ার পরিমাণও কমে যায়। তেমনটা হতে দেবেন না! এবার জেনে নিন কোন কোন প্রাকৃতিক উপাদান মুখের ত্বক পরিষ্কার করার জন্য আদর্শ।

নারকেল তেল: সারা দিনের কাজের শেষে রাজ্যের ধুলোময়লা আর ক্লান্তি মাখা মুখটা নিয়ে বাড়ি ফেরার পর তৎক্ষণাৎ ফেস ওয়াশের শরণ না নিয়ে খানিকটা ভালো মানের একস্ট্রা ভার্জিন নারকেল তেল মুখে-গলায় ভালো করে মালিশ করে নিন। চক্রাকারে আলতো স্ট্রোকে আঙুল চালাবেন, মিনিট দু’য়েক মালিশ করলেই হবে। তার পর এক টুকরো ভেজা তুলো বা নরম কাপড়ে আলতো করে মুখটা মুছে বাড়তি তেল তুলে জলের ঝাপটা দিয়ে মুখ-গলা পরিষ্কার করে নিন। তার পর ঠান্ডা গোলাপজল দিয়ে টোন করে মুখে লাগিয়ে নিন পছন্দের ময়েশ্চরাইজ়ার। তবে যাঁদের ত্বক ব্রণপ্রবণ ও নারকেল তেল ব্যবহার করলে অসুবিধে হয়, তাঁরা এই পদ্ধতি এড়িয়ে যেতে পারেন।

দুধ: ঠান্ডা দুধে তুলোর প্যাড বা নরম কাপড় ডুবিয়ে ত্বক পরিষ্কার করতে পারেন যে কেউ। আপনার ত্বকের প্রকৃতি যেমনই হোক না কেন, দুধ ক্লেনজ়ার হিসেবে চমৎকার কাজ করবে। যাঁদের ত্বকে মধু সহ্য হয়, তাঁরা দুধের সঙ্গে খানিকটা মধু মিশিয়ে নিতে পারেন। রোজ রাতে ব্যবহার করা যায়। তার পর বিধিমতো টোনার ও ময়েশ্চরাইজ়ার লাগানোর পরামর্শও দেওয়া হয়।

দই আর শসার মিশ্রণ: শসা কুরে নিন (তবে রোজের রান্নার জিনিসপত্র যে গ্রেটারে কোরা হয়, সেটি থেকে শত হস্ত দূরে থাকুন), তার মধ্যে মিশিয়ে নিন পরিমাণমতো দই ও তৈরি করুন থকথকে একটি মিশ্রণ। তার পর সেটি লাগিয়ে নিন মুখে ও গলায়। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে টোনার ও ময়েশ্চরাইজ়ার লাগান। এই প্যাক বয়সের ছাপ ও পিগমেন্টেশনও দূর করে দিতে পারে। তবে রোজ নয়, ব্যবহার করুন একদিন বাদ দিয়ে।

দই, মধু আর লেবুর রস: দইয়ের ল্যাকটিক অ্যাসিড ত্বক পরিষ্কার করে, সেই সঙ্গে রাখে নরম ও কুসুম কোমল। সেই সঙ্গে মধু আর লেবুর রস মিশলে দুটো কাজ হয় – লেবুর রস ট্যান তাড়ায়, মধু কাজ করে প্রাকৃতিক ময়েশ্চরাইজ়ার হিসেবে। তবে লেবুর রস আর মধু ব্যবহার করার আগে অবশ্যই একবার প্যাচ টেস্ট করে দেওয়া দরকার। বিশেষ করে যাঁদের ত্বক স্পর্শকাতর, তাঁরা এই দু’টি উপাদান ত্বকে সহ্য হচ্ছে কিনা সে বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে তবেই ব্যবহার করুন।

ওটমিল, দই, মধু: ওটমিল, দই আর মধু একসঙ্গে মিশিয়ে থকথকে মিশ্রণ তৈরি করে নিন। তার পর সেটি মুখে, গলায়, ঘাড়ে লাগিয়ে রাখুন মিনিট 15। শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা জলে মুখ ধুয়ে লাগিয়ে নিন টোনার ও ময়েশ্চরাইজ়ার।

Check Also

কাঁচা সোনার মতো উজ্জ্বল ত্বক চাইলে ভরসা রাখতেই হবে কাঁচা হলুদে

রূপটানের কথা উঠলে একদম প্রথমদিকেই থাকবে হলুদের নাম। এমনিতেই যে কোনও উৎসবে পার্বণ হলুদ ছাড়া …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *