Home / এজিং / বয়স বাড়ার প্রক্রিয়াটিকে কি কোনওভাবে পিছিয়ে দেওয়া সম্ভব?

বয়স বাড়ার প্রক্রিয়াটিকে কি কোনওভাবে পিছিয়ে দেওয়া সম্ভব?

এমন অনেক মানুষ আছেন, যাঁদের দেখে মোটেই বয়স বোঝা যায় না। চিত্রতারকারা যেমন – শিল্পা শেঠি বা মাধুরী দীক্ষিতদের দেখলেই বুক চিরে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে, তাই না? কখনও কি আপনিও ভেবেছেন, বয়সের চাকার গতিরোধ করা সম্ভব কিনা? যদি আমাদের জিজ্ঞেস করেন, তা হলে বলব, নিশ্চয়ই সম্ভব। তবে সেই সঙ্গে এটাও মাথায় রাখবেন যে কোনও না কোনওদিন বয়সের থাবা পড়বেই শরীরে – তবে সেটি দীর্ঘায়িত করা যায়। খুব ভালো হয় একেবারে কম বয়স থেকে কিছু বেসিক ডিসিপ্লিন মেনে চলতে পারলে। কিন্তু অল্প বয়সে জরা নিয়ে কে-ই বা কবে চিন্তাভাবনা করেছে? দীর্ঘদিনের অযত্ন জমতে জমতেই কিন্তু গালে কালো ছোপ, মেচেতার দাগ পড়তে আরম্ভ করে। তেমনটা না চাইলে আজ থেকেই সচেতন হোন।

পানি খান বেশি করে: আপনি হয়তো ভাববেন যে, যে কোনও সমস্যার সমাধান হিসেবেই বেশি বেশি করে পানি খাওয়ার কথা বলা হয় কেন? কারণ পানির অনেক গুণ আছে, তাই! আপনি খাবার ছাড়া 40 দিন বেঁচে থাকতে পারবেন, পানি ছাড়া একটা দিনও চলবে না। সমস্ত শারীরবৃত্তীয় কাজকর্মেই বাধা তৈরি করবে পানির অভাব। পানি আর্দ্রতার ঘাটতি মেটায়, শরীরে জমে থাকা টক্সিন দূর করে। ত্বক যত আর্দ্র থাকবে, তত বজায় থাকবে স্থিতিস্থাপকতা। এই টানটান ভাবটা কমলেই কিন্তু বলিরেখা হামলা চালাবে সবার আগে।

ব্যায়াম: এ ক্ষেত্রেও সেই একই প্রশ্ন উঠতে পারে, কেন জরার মার ঠেকাতে গেলেও ব্যায়াম করা প্রয়োজন? উত্তরটা সহজ। নিয়মিত ব্যায়াম করলে বা অ্যাকটিভ থাকলে আপনার শরীরের ভিতরকার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। ফলে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যে সব সমস্যা দেখা দেয়, সেগুলি থেকে আপনি নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারেন। মনে রাখবেন, শরীরের বাইরে থেকে যে মেদের পরত দেখা যাচ্ছে, তা কিন্তু ভিতরেও জমে রয়েছে। আর বাড়তি বোঝা নিয়ে চলতে গেলে সমস্যাও বাড়বে। তা ছাড়া, ব্যায়াম করলে রক্ত চলাচলের হার বাড়ে, গোটা শরীরের সব কোষে পৌঁছে যায় অক্সিজেন। ফলে তা ঝলমল করে। শরীরের ভিতরে রোগ থাকলে কিন্তু ত্বক-চুল ঝলমল করার কথা নয়।

ঘুম: শরীরকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম দিন, একমাত্র তা হলেই তা সুস্থ ও সুন্দর থাকবে। প্রতিদিন আট ঘণ্টা নির্ভার ঘুম সবার ভালো থাকার জন্য একান্ত প্রয়োজনীয়। মাঝরাতে উঠেও অফিসের মেল বা হোয়াটসঅ্যাপ চেক করার অভ্যেস আছে? তাতে কিন্তু আপনি নিজের ক্ষতিই করছেন। মোবাইল আর কম্পিউটার স্ক্রিন থেকে বিচ্ছুরিত আলো কিন্তু ত্বকের বয়স বাড়িয়ে দেয় খুব তাড়াতাড়ি। তবে বালিশের উপর মুখ উপুড় করে ঘুমোবেন না, তাতে কিন্তু মুখে বলিরেখা পড়ে।

মাথা নিচু করে কম্পিউটার বা মোবাইলের দিকে দীর্ঘক্ষণ তাকাবেন না: তাতে কিন্তু বলিরেখা পড়ার আশঙ্কা বাড়ে। কম্পিউটার রাখুন চোখ বরাবর। হোয়াটসঅ্যাপ চেক করার জন্যও নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ রাখুন, সারা দিন ঘাড় গুঁজে পড়ে থাকবেন না।

স্যাচুরেটেড ফ্যাট কমান, বাড়ান ওমেগা থ্রি: অধিকাংশ চিত্রতারকাই খুব নিয়ম মেনে খাওয়াদাওয়া করেন, তাই তাঁদের শরীরে বয়সের ছাপ তেমন পড়ে না। ভাজাভুজি, কেক-আইসক্রিম-মিষ্টি-বিস্কুটের মাত্রা কমান বদলে বাড়ান বাদাম-সিডস-ডিম-ফুল ফ্যাট দুধের পরিমাণ। শাকসবজি ও ফলমূল খাওয়াটাও খুব জরুরি। মাছ-ডিম-মুরগি চলতে পারেন, রাশ টানুন লাল মাংসের ক্ষেত্রে।

মন ভালো রাখুন: এটাই কিন্তু সুস্থ, সুন্দর, তরুণ থাকার সবচেয়ে সহজ ও গুরুত্বপূর্ণ উপায়। আপনার মনের অবস্থার ছাপ পড়বে মুখে ও সারা শরীরে। স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করুন, এমন কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ুন যা করতে আপনার ভালো লাগে। তা হলেই বেশিদিন তারুণ্য ধরে রাখা সম্ভব।

Check Also

কাঁচা সোনার মতো উজ্জ্বল ত্বক চাইলে ভরসা রাখতেই হবে কাঁচা হলুদে

রূপটানের কথা উঠলে একদম প্রথমদিকেই থাকবে হলুদের নাম। এমনিতেই যে কোনও উৎসবে পার্বণ হলুদ ছাড়া …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *