Home / সুস্থতা / দীপাবলি এলেই শ্বাসকষ্টের সমস্যা বাড়ে? জেনে নিন কী করলে আরাম মিলবে

দীপাবলি এলেই শ্বাসকষ্টের সমস্যা বাড়ে? জেনে নিন কী করলে আরাম মিলবে

দিওয়ালি আর কালীপুজোয় বাজি পোড়াতে একদল মানুষ খুব ভালোবাসেন। আবার যাঁরা সিওপিডি বা ফুসফুসের অসুখে ভোগেন, তাঁদের কাছে এই সময়টা দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। বাতাসে দূষণ কণার পরিমাণ খুব বেড়ে যায়। যেহেতু এই সময়টায় না বৃষ্টি হয়, না জোরে উত্তুরে বাতাস বয় তাই মাটির খুব কাছাকাছিই ঘোরাফেরা করে গাঢ় ধোঁয়ার চাদর। ফলে যাঁদের সমস্যা আছে তাঁরা তো বটেই, বাচ্চা আর বয়স্ক মানুষজনও খুব সমস্যায় পড়েন। একটা কথা মনে রাখবেন, 10 বছর বয়সের পর আমাদের শরীরের প্রতিরোধক্ষমতা ক্রমশ বাড়ে, তা ফের কমতে আরম্ভ করে 65 বছরের পর থেকে। তাই শিশু আর বয়স্কদেরই শ্বাসকষ্ট বেশি হয়।

এবার প্রশ্ন, এই পরিস্থিতি থেকে বাঁচার উপায় কী? সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে বাজি পোড়ানো থেকে বিরত থাকা। শুনতে খারাপ লাগলেও এটিই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। বাজি পোড়ানোর সময় কিন্তু আপনি মাস্ক পরেও সুবিধে করতে পারবেন না – তাই বাড়ির অন্য সদস্যরা উপভোগ করলেও যাঁদের অ্যাস্থমা আছে বা প্রতিরোধক্ষমতা কম, তাঁরা সব রকম বাজি থেকে দূরে থাকুন। সন্ধের দিকটা ঘরের মধ্যে থাকতে পারলেই ভালো হয়। সম্ভব হলে এসি চালিয়ে রাখুন। এসি নিয়মিত পরিষ্কার করাও দরকার।

দীপাবলির আগে সাধারণত বাড়ি-ঘর পরিষ্কার করেন অনেকে, বিশেষ করে যাঁদের বাড়িতে পুজো থাকে। অ্যাস্থমা, সিওপিডি বা ফুসফুসের অন্য কোনও সমস্যা যাঁদের আছে তাঁরা এই কার্যক্রমটিতে মোটেই যোগ দেবেন না। ধুলো-ময়লা থেকে যতটা দূরে থাকবেন, ততই ভালো থাকবেন। সেই সঙ্গে তাপমাত্রার স্তরেও পরিবর্তন আসে, তাই যে কোনও মুহূর্তে ইনফেকশন হতে পারে।

হাতের কাছে আপনার প্রয়োজনীয় ওষুধ ও ইনহেলার রাখুন। সাধারণত শ্বাসকষ্টের রোগীদের দু’ ধরনের ওষুধ সঙ্গে রাখতে হয় – একটি ব্যবহৃত হয় রোগ ঠেকিয়ে রাখার জন্য, অন্যটি আচমকা অ্যাটাক হলে সামাল দেওয়ার জন্য। দ্বিতীয়টি অবশ্যই হাতের কাছে রাখুন – রাতবিরেতে বিপদ হলে ডাক্তার নাও পেতে পারেন! ভুললে চলবে না, তাঁরাও মানুষ এবং তাঁদেরও পরিবার পরিজনের সঙ্গে ছুটি কাটানোর প্রয়োজন হতে পারে।

হিসেবের বাইরে গিয়ে খাওয়াদাওয়া করবেন না। যত বেশি ভাজাভুজি আর মিষ্টি খাবেন, তত দুর্বল হবে আপনার ইমিউন সিস্টেম। ফল-সবজি খেতেই হবে, ভিটামিন সি-এর অভাব যেন না হয়। এই সময়ে বাজারে তাজা আমলকী আসতে আরম্ভ করে, রোজের ডায়েটে আমলকী ও পাতিলেবু/ বাতাবিলেবু রাখুন অবশ্যই।

ব্যায়ামের ক্ষেত্রে সাবধান। খুব সকালে বা বেশি রাতে বাইরে হাঁটা অথবা জগিং করতে যাবেন না, সে সময়ে দূষণের মাত্রা সবচেয়ে বেশি থাকে। জিমে যেতে পারেন, বাড়িতে যোগাভ্যাস করলেও চলবে।   

Check Also

বাদাম খাওয়াটা ঠিক কতটা স্বাস্থ্যকর?

এ কথা মোটামুটি আমরা সবাই জানি যে বাদাম আর বিভিন্ন শস্যের বীজকে আজকার খুব স্বাস্থ্যকর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *