Home / ফিটনেস / দিনের শুরুতে কী কী খেলে সারাক্ষণ তরতাজা অনুভব করবেন জানতে চান?

দিনের শুরুতে কী কী খেলে সারাক্ষণ তরতাজা অনুভব করবেন জানতে চান?


আপনি কি অফিসে চাকরি করেন? অথবা কলেজে পড়েন? তা হলে নিশ্চিতভাবেই আপনার আশপাশে দু’ ধরনের মানুষের অস্তিত্ব দেখতে পাবেন। একদল আছেন, যাঁরা সকাল থেকেই পজ়িটিভ, একেবারে টাটকা ঘোড়ার মতো চনমন করছেন। আর একদল অফিসে বা কলেজে ঢোকার সময়েই কেমন যেন এলোমেলো – কাপের পর কাপ চা বা কালো কফি উড়িয়ে দিচ্ছেন, কিন্তু কিছুতেই এনার্জি পাচ্ছেন না, কেমন যেন ঝিমোচ্ছেন। এর নানা কারণ থাকে, তা ছাড়া সকলের শরীরের ক্ষমতাও তো আর সমান হয় না! বিশেষ করে যাঁরা ব্যায়াম করেন আর খাওয়াদাওয়ার ক্ষেত্রেও খুব নিয়ম মেনে চলেন, তাঁদের এনার্জি লেভেল সাধারণত একটু উপরের দিকেই থাকে। তবে সেই সঙ্গে এটাও ঠিক যে সকালবেলা বাড়ি থেকে বেরনোর আগে খাবার হিসেবে আপনি কী খাচ্ছেন, তার উপরে কিন্তু অনেক কিছু নির্ভর করে। একথা ঠিক, ঘুম থেকে উঠেই কারও খিদে পায় না। শরীরের সিস্টেমটা চালু হতেও খানিকটা সময় নেয়। তাই যাঁরা ঘুমচোখে অফিসের পথে রওনা হন, তাঁদের এনার্জি তলানিতেই থাকবে, অনেক কফি খেলেও সুবিধে করে উঠতে পারবেন না। তাই রাতে ঠিক সময়ে ঘুমোতে যাওয়া আর সকালে হাতে সময় নিয়ে ওঠাটা খুব জরুরি। 7-8 ঘণ্টা আপনি নিশ্চিতভাবেই ঘুমোন, তাই ওঠার খানিক পর শরীর কিছু খাবার চাইবে সেটাই স্বাভাবিক। জেনে নিন সেই সময়ে কী কী খাওয়া সবচেয়ে ভালো।

দিন শুরু করুন চা নয়, লেবুর জল দিয়ে: না, খালি পেটে লেবু খেলে অ্যাসিড হয় না মোটেই! বরং লেবুর টকভাব আপনার পেটের বাড়তি অ্যাসিডকে কাটিয়ে নিউট্রালাইজ় করে দেবে। অ্যালকালাইন অবস্থাটা হজমের পক্ষে সহায়ক। এর পরেই চা খাবেন না, চেষ্টা করুন একটা ফল খাওয়ার।

চা-কফি: এর খানিক পর চা বা কফি খাওয়া যায়, তবে সঙ্গে বিস্কিট খাওয়ার অভ্যেস থাকলে সেটা ছাড়তে হবে। একমুঠো মুড়ি চলতে পারে। গোটা চারেক বাদাম খেতে পারেন। তবে ময়দা থেকে দূরে থাকতে পারলেই ভালো হয়।

ডিম: প্রাতরাশে প্রোটিন খেলে আপনার পেট অনেক বেশিক্ষণ ভরে থাকবে। তাই ডিম রাখুন খাদ্যতালিকায়। তবে অমলেটের চেয়ে সেদ্ধ ডিম অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর। আর না, কুসুম বাদ দিয়ে কেবল ডিমের সাদাটুকু খাওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই! পুরো ডিম নিশ্চিন্তে খান।

দুধ বা দুধজাত প্রডাক্ট: দুধ-দই, কোনও ফল, কুমড়োর বীজ, ওটস ইত্যাদি দিয়ে স্মুদি বানিয়ে খেতে পারেন। ছানা খেতে পারেন। রুটির মধ্যে ছানা ভরে রোল করে নিতে পারেন। দুধ-মুড়ি-কলা বা কর্নফ্লেক্সও চমৎকার নাশতা । খাওয়া যায় চিড়ে-দইও।

ফল: এক বা একাধিক ফল খেয়েও দিন শুরু করা যায়। ফলের ক্ষেত্রে কোনও বাছবিচার করবেন না, সব ফল নিশ্চিন্তে খান। তবে স্রেফ ফল খেলে কিছুক্ষণ পরে ফের খিদে পেতে পারে। ফল আর ছানা বা ডিম খাওয়া ভালো তার চেয়ে।

রুটি-তরকারি: রুটি-তরকারি খাঁটি বাঙালি খাবার এবং পেট ভরিয়ে রাখে বহুক্ষণ। রুটির সঙ্গে সবজি দেওয়া ডাল খেতে পারেন তরকারির বদলে, তাতে প্রোটিন-কার্বোহাইড্রেট-ফ্যাট-রাফেজের ব্যালান্স বজায় থাকবে।

কী কী এড়িয়ে চলবেন: ব্রেকফাস্ট বলতে যা যা বোঝায় – ময়দার পাউরুটি, ফলের রস, প্যাকেজড সিরিয়াল, প্রসেসড মাংস সব কিছু এড়িয়ে চলুন। এর কোনওটাই আপনার শরীর সুস্থ রাখতে সাহায্য করবে না। যা দেখতে ভালো, তা কি সব সময় কাজেও ভালো হয়

Check Also

বাদাম খাওয়াটা ঠিক কতটা স্বাস্থ্যকর?

এ কথা মোটামুটি আমরা সবাই জানি যে বাদাম আর বিভিন্ন শস্যের বীজকে আজকার খুব স্বাস্থ্যকর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *