Home / ত্বক / ত্বকের উপরে জমে থাকা মৃত কোষেদের সরিয়ে সুন্দরী হয়ে উঠতে চান? কাজে লাগান এই ঘরোয়া পদ্ধতিগুলিকে!

ত্বকের উপরে জমে থাকা মৃত কোষেদের সরিয়ে সুন্দরী হয়ে উঠতে চান? কাজে লাগান এই ঘরোয়া পদ্ধতিগুলিকে!

খালি চোখে দেখা না গেলেও সারাক্ষণ ডেড স্কিন সেলেরা জমতে থাকে মুখের উপরে। যে কারণে সৌন্দর্য কমতে সময় লাগে না। তাই তো সপ্তাহে কম করে ২-৩ দিন স্কার্বের সাহায্যে ত্বকের পরিচর্যা করার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। এমনটা করলে মৃত কোষেদের স্তর সরে যায়। ফলে ত্বক উজ্জ্বল এবং প্রাণবন্ত হয়ে উঠতে সময় লাগে না। এখন প্রশ্ন হল স্কার্বার হিসেবে কী ব্যবহার করবেন? এক্ষেত্রে বাজার চলিত এক্সপেনসিভ ফেস স্কার্ব ব্যবহার করতেই পারেন। কিন্তু অল্প খরচে যদি ত্বকের পরিচর্যা করতে চান, তাহলে এই প্রবন্ধে একবার চোখ রাখতে হবে। তাহলেই দেখবেন একের পর এক সরে যাচ্ছে মৃত কোষের স্তর। এদিকে পকেটও খালি হচ্ছে না। আসলে এই লেখায় বেশ কিছু ঘরোয়া স্কার্বার সম্পর্কে আলোচনা করা হল, যা নিয়মিত মুখে লাগালে কাঙ্খিত লক্ষে পৌঁছাতে সময় লাগবে না। প্রসঙ্গত, এই সব ঘরোয়া ফেস স্কার্বারগুলি বানাতে যে যে উপদানগুলির প্রয়োজন পরবে, সেগুলি হল…

১. কফি এবং চিনি দিয়ে বানান স্কার্ব:

এক্ষেত্রে হাফ কাপ কফি গুঁড়ো, হাফ কাপ চিনি, ২ চামচ অলিভ অয়েল এবং ৩ টে ভিটামিন ই ক্যাপসুলের প্রয়োজন পরবে। এই সবকটি উপাদান মিশিয়ে বানিয়ে নিতে হবে একটি পেস্ট। তারপর সেটি মুখে লাগিয়ে কম করে ১০ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। সময় হয়ে গেলে ধুয়ে ফলতে হবে মুখটা। আসলে কফিতে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের সৌন্দর্য বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আর চিনি মৃত কোষেদের সরিয়ে ফেলে। ফলে অল্প সময়ে ত্বক সুন্দর হয়ে ওঠে।

২. সামদ্রিক লবন:

এতে উপস্থিত উপকারি খনিজ একদিকে যেমন ত্বকের অন্দরে পুষ্টির ঘাটতি দূর করে, তেমনি স্কার্বার হিসেবেও দারুন কাজে আসে। শুধু তাই নয়, সামদ্রিক লবন নিয়ে মুখে মাসাজ করার সময় ত্বকের অন্দরে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্তের সরবরাহও বেড়ে যায়। এই কারণেও ত্বক সুন্দর এবং প্রাণচ্ছ্বল হয়ে উঠতে সময় লাগে না। এক্ষেত্রে ১ কাপ সামদ্রিক লবন, হাফ কাপ অলিভ অয়েল এবং ৫-১৫ ড্রপ এসেনশিয়াল অয়েল নিয়ে সব কটি উপাদান ভাল করে মিশিয়ে নিতে হবে। তারপর মিশ্রনটি ত্বকে লাগিয়ে কম করে ১৫ মিনিট মাসাজ করতে হবে। তাহলেই দেখবেন সুফল পেতে শুরু করেছেন। প্রসঙ্গত, সপ্তাহে ২-৩ বার এইভাবে ত্বকের পরিচর্যা করলে দারুন উপকার মিলবে।

৩. নারকেল তেল:

একেবারে ঠিক শুনেছেন। এই প্রকৃতিক উপাদানটিও স্কার্বার হিসেবে দারুন কাজে আসে। তবে তার জন্য হাফ কাপ নারকেল তেলের সঙ্গে সম পরিমাণে চিনি মিশিয়ে নিতে হবে। তারপর তা মুখে লাগিয়ে ভাল করে মাসাজ করলেই কেল্লা ফতে! প্রসঙ্গত, এই মিশ্রনটির সাহায্যে কম করে ১৫-২০ মিনিট ত্বকের পরিচর্যা করতে হবে। তবেই মিলবে উপকার। নিশ্চয় ভাবছেন নারকেল তেল কীভাবে ত্বকের উপকারে লাগে, তাই তো? আসলে এই তেলটির অন্দরে উপস্থিত একাধিক উপকারি উপাদান ত্বকের অন্দরে কোলাজেনের উৎপাদন বহাড়িয়ে দেয়। ফলে ত্বকের সৌন্দর্য় বৃদ্ধি পেতে সময় লাগে না। সেই সঙ্গে ত্বকের হারিয়ে যাওয়া আদ্রতাকে যেমন ফিরিয়ে আনে, তেমনি মৃত কোষেদেরও ধুয়ে ফেলে।

৪. অলিভ অয়েল এবং ব্রাউন সুগার:

হাফ কাপ অলিভ অয়েলের সঙ্গে ১ কাপ ব্রেউন সুগার এবং ১৫ ড্রপ এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে একটা মিশ্রন বানিয়ে নিন। তারপর সেই পেস্টটা মুখে লাগিয়ে কম করে ৫-১০ মিনিট মাসাজ করুন। কিছু সময় পর গরম জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন মুখটা।

৫. ওটসমিল:

শরীরকে চাঙ্গা রাখার পাশাপাশি ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতেও ওটসমিলের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। আসলে এই খাবারটির অন্দরে উপস্থিত বেশ কিছু উপকারি উপাদান ত্বককে ভিতর থেকে সুন্দর করে তোলে। তাই তো ত্বকের পরিচর্যায় ওটসমিলকে কাজে লাগানোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা। এক্ষেত্রে হাফ কাপ ওটসমিলের সঙ্গে হাফ কাপ ব্রাউন সুগার, হাফ কাপ মধু এবং ২ ড্রপ ল্যাভেন্ডার তেল মিশিয়ে একটি পেস্ট বানিয়ে নিতে হবে। তারপর সেটি মুখে লাগিয়ে ১০-১৫ মিনিট মাসাজ করতে হবে। প্রসঙ্গত, সপ্তাহে ৩ বার এইভাবে ত্বকের পরিচর্যা করলেই দেখবেন উপকার মিলতে শুরু করেছে।

৬. দই:

একেবারে ঠিক শুনেছেন! দইকে স্কার্বার হিসেবে কাজে লাগানো যেতে পারে। আসলে দই যে শুধু মৃত কোষেদের স্তর সরায়, এমন নয়, সেই সঙ্গে ত্বকের হারিয়ে যাওয়া আদ্রতাও ফিরে আসে। ফলে সময়ের আগে ত্বক বুড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়। এক্ষেত্রে ১ চামচ দইয়ের সঙ্গে হাফ কাপ অলিভ অয়েল, ১ চামচ মধু এবং ৩ চামচ চিনি মিশিয়ে একটা পেস্ট বানিয়ে নিতে হবে। তারপর তা মুখে লাগিয়ে ভাল করে মাসাজ করতে হবে। ১৫ মিনিট মাসাজ করার পর হালকা গরম জল দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে মুখটা। প্রসঙ্গত, সপ্তাহে ২-৩ বার এইভাবে ত্বকের পরিচর্যা করতে হবে।

Check Also

কাঁচা সোনার মতো উজ্জ্বল ত্বক চাইলে ভরসা রাখতেই হবে কাঁচা হলুদে

রূপটানের কথা উঠলে একদম প্রথমদিকেই থাকবে হলুদের নাম। এমনিতেই যে কোনও উৎসবে পার্বণ হলুদ ছাড়া …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *