Home / অয়েলি স্কিন / অয়েলি ত্বকের সমস্যা কমাতে ঘরোয়া টোটকার সন্ধান পেতে চান কি?

অয়েলি ত্বকের সমস্যা কমাতে ঘরোয়া টোটকার সন্ধান পেতে চান কি?

শীতের শেষ লগ্ন এসে গেলে বলে। এই সময় অনেকেই বেজায় চিন্তায় পরে যান। তাদের চিন্তা একটাই! গরম যত বাড়বে, ততই বাড়বে ঘামের মাত্রা। আর এমনটা হলে ত্বক হয়ে উঠবে তেলের খনি। ফলে সারাদিন প্যাচপ্যাচে মুখ নিয়ে ঘুরতে ঘুরতে স্কিনের সৌন্দর্য যাবে কমে। এমন চিন্তায় যাদের রাতের ঘুম মাথায় উঠেছে, তাদের এই প্রবন্ধে একবার চোখ রাখতেই হবে। কারণ এই লেখায় এমন কিছু সহজ উপায় সম্পর্কে আলোচনা করা হল, যেগুলিকে কাজে লাগালে দেখবেন অল্প দিনেই তেলতেলে ত্বকের সমস্যা তো কমবেই, সেই সঙ্গে হারিয়ে যাওয়া সৌন্দর্যও ফিরে আসবে। এক্ষেত্রে যে যে উপাদানগুলি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে, সেগুলি সম্পর্কে আলোচনা করা তো হবেই, কিন্তু তার আগে তেলতেল ত্বকের পিছনে কী কারণ দায়ি সে সম্পর্কে একটু জেনে নেওয়া যাক। ত্বকের অন্দরে থাকা সিবেসিয়াস গ্ল্যান্ড থেকে যখন প্রয়োজনের অতিরিক্ত সিবামের উৎপাদন হয়, তখনই ত্বক তেলতেলে হতে শুরু করে। আর এমনটা হওয়া মাত্র ধীরে ধীরে নানাবিধ ত্বকের সমস্যা মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই স্কিন টোন তো খারাপ হয়েই। সেই সঙ্গে জীবন দুর্বিসহ হয়ে উঠতেও সময় লাগে না। তাই তো তেলতেলে ত্বকের সমস্যাকে হলকাভাবে নেওয়া একেবারেই উচিত নয়। প্রসঙ্গত, সিবাম কিন্তু নানাভাবে আমাদের সৌন্দর্য বাড়াতে কাজে এসে থাকে। যেমন ধরুন চুলের ঔজ্জ্বল্য বাড়াতে যেমন এই উপাদানটি বিশেষ ভূমিকা নেয়, তেমনি ড্রাই স্কিনের সমস্যা কমাতেও সাহায্য করে। কিন্তু সমস্যাটা শুরু হয় তখনই, যখন সিবামের উৎপাদন প্রয়োজনের তুলনায় বেশি হতে শুরু করে। চলুন এবার সেই প্রশ্নের সন্ধানে নামা যাক, যে প্রশ্ন দিয়ে শুরু হয়েছিল এই প্রবন্ধ। কী কী উপায়ে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব সিবামের উৎপাদন?

১. বারে বারে মুখ ধুতে হবে: বেশ কিছু কেস স্টাডিতে একটা বিষয় লক্ষ করা গেছে যে সিবারের উৎপাদন কমাতে মুখ ধোয়ার কোনও বিকল্প নেই বললেই চলে। কারণ জলের ঝাপটায় অতিরিক্ত তেল ধুয়ে যায়। ফলে স্কিন সুন্দর হয় ওঠে। এক্ষেত্রে আরেকটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে, তা হল দিনে দুবার ভাল কোনও ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুতে হবে। এই নিয়মটি মেনে চললে দেখবেন দারুন উপকার পাবেন।

২. ব্লটিং পেপার: আজকাল বাজারে সেন্টড ব্লডিং পেপার পাওয়া যায়। পছন্দসই কোনও একটা সব সময় ব্যাগে রাখবেন। যখনই দেখবেন ত্বক তেলতেলে হয়ে যাচ্ছে, তখনই অল্প করে ব্লটিং পেপার নিয়ে ভাল করে মুখটা মুছে নেবেন। এমনটা করলে তেলের অতিরিক্ত উৎপাদন তো বন্ধ হবে না, কিন্তু তা থেকে ত্বকের কোনও ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা যাবে কমে।

৩. মধু: একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে ত্বককে আদ্র রাখার পাশাপাশি মধুতে উপস্থিত নানাবিধ উপকারি উপাদান সিবামের উৎপাদন কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। সেই সঙ্গে তেলতেলে ত্বক হওয়ার কারণে যদি ব্রণর সমস্যা হয়ে থাকে, তা কমাতেও এই প্রকৃতিক উপাদানটি সাহায্য করে থাকে। এক্ষেত্রে পরিমাণ মতো মধু নিয়ে সারা মুখে ভাল করে লাগাতে হবে। যখন দেখবেন মধুটা একেবারে শুকিয়ে গেছে, তখন ভাল করে মুখটা ধুয়ে ফেলবেন!

৪. ওটমিল: এটি দিয়ে বানানো ফেস প্যাক মুখে লাগালে একদিকে যেমন অতিরিক্ত তেলের উৎপাদন কমে যায়, তেমনি স্কিনের উপরিঅংশে জমে থাকা মৃত কোষের স্থর সরে যাওয়ার কারণে স্কিন সুন্দর এবং উজ্জ্বল হয়ে উঠতেও সময় লাগে না। এক্ষেত্রে ওটমিলের সঙ্গে দই, মধু, কলা, আপেল অথবা পেঁপে মিশিয়েও ফেস প্যাকটি বানানো যেতে পারে। এখন প্রশ্ন হল কীভাবে বানাতে হবে এই ফেস প্যাকটি? প্রথমে অল্প করে ওটমিল নিয়ে তাতে জল মিশিয়ে একটা পেস্ট বানিয়ে নিন। তারপর তাতে ১ চামচ মধু মেশান। এই সময় অল্প করে পেঁপেও মেশাতে পারেন এই মিশ্রনে। যখন দেখবেন সবকটি উপাদান ঠিক মতো মিশে গেছে, তখন পেস্টটি ভাল করে মুখে লাগিয়ে নিতে হবে। কয়েক মিনিট অপেক্ষা করার পর ধুয়ে ফেলতে হবে। এইভাবে যদি প্রতিদিন যদি ত্বকের পরিচর্যা করতে পারেন, তাহলে দেখবেন স্কিনের সৌন্দর্য নিয়ে কোনও দিনই আর চিন্তায় পরতে হবে না।

৫. ডিমের সাদা অংশ এবং লেবু: অতিরিক্ত সিবামের উৎপাদন কমাতে এই ঘরোয়া টোটকাটির কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। আসলে এই দুটি উপাদানের অন্দরে থাকা একাধিক উপকারি উপাদান অতিরিক্ত তেলকে শুষে নেয়, সেই সঙ্গে নানাবিধ ত্বকের সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও কমে। এক্ষেত্রে প্রথমে ১ টা ডিমের সাদা অংশের সঙ্গে ১ চামচ লেবুর রস মেশাতে হবে। তারপর সেই মিশ্রনটা ভাল করে মুখে লাগিয়ে নিতে হবে। যতক্ষণ না ড্রাই হচ্ছে, ততক্ষণ অপেক্ষা করে হলকা গরম জল দিয়ে মুখটা ধুয়ে ফেলতে হবে। নিয়মিত এমনটা করলে দেখবেন দারুন উপকার পাবেন।

৬. বাদাম: এই প্রাকৃতিক উপাদানটি শুধু অতিরিক্ত তেলের উৎপাদন কমায় না, সেই সঙ্গে ত্বকের অন্দরে এবং বাইরে জমে থাকা ময়লা এবং ক্ষতিকারক উপাদানদের বের করে দেয়। তাই অল্প দিনেই যদি সুন্দরি হয়ে উটতে চান, তাহলে ত্বকের পরিচর্য়ায় বাদামকে কাজে লাগাতে ভুলবেন না যেন! এক্ষেত্রে তিন চামচ বাদামের গুঁড়োর সঙ্গে ২ চামচ মধু মিশিয়ে নিতে হবে। তারপর মিশ্রনটি ভাল করে মুখে লাগিয়ে ধীরে ধীরে মাসাজ করতে হবে। এরপর কিছু সময় অপেক্ষা করার পর হলকা গরম জল দিয়ে ভাল করে ধুয়ে ফেলতে হবে মুখটা।

Check Also

কাঁচা সোনার মতো উজ্জ্বল ত্বক চাইলে ভরসা রাখতেই হবে কাঁচা হলুদে

রূপটানের কথা উঠলে একদম প্রথমদিকেই থাকবে হলুদের নাম। এমনিতেই যে কোনও উৎসবে পার্বণ হলুদ ছাড়া …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *